দেশের যেকোনো সংকট ও পরিবর্তনের সময়ে জাতীয় ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ৭ নভেম্বরের চেতনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের মুক্তি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে দিনটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্জন করে।
দিনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ঘুরে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব মো. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. তানজিউল ইসলাম, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার গোলাম মোস্তফা, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের প্রিন্সিপ্যাল রিসার্চ অফিসার ড. মো. রোকনুজ্জামান প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।