রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ৬ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ৩:২৩:৩৮
শিরোনাম
● অবকাশকালীন ছুটির পর সুপ্রিম কোর্টের প্রথম কার্যদিবস ২৫ অক্টোবর ● তিন বর্ষের সিলেবাসে হবে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ● রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ● কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৯, গ্রেপ্তার ১২ ● মাদকবিরোধী অভিযানে আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ: ডিবি প্রধান ● দুর্গাপূজায় উস্কানি-গুজব প্রতিরোধে ‘সোস্যাল মিডিয়ায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারী’ এসআরবির ● ব্যবসার জন্য ২০ লাখ টাকা পাবেন তরুণরা, আবেদনের করবেন যেভাবে ● জাতীয় প্রেসক্লাবের মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ● রাজধানীর মাতুয়াইল বাজারে জবির বাসে আগুন ● ফেসবুকে বিনা খরচে ভেরিফায়েড ব্যাজ, পাবেন না যাঁরা ● অবকাশকালীন ছুটির পর সুপ্রিম কোর্টের প্রথম কার্যদিবস ২৫ অক্টোবর ● তিন বর্ষের সিলেবাসে হবে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ● রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ● কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৯, গ্রেপ্তার ১২ ● মাদকবিরোধী অভিযানে আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ: ডিবি প্রধান ● দুর্গাপূজায় উস্কানি-গুজব প্রতিরোধে ‘সোস্যাল মিডিয়ায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারী’ এসআরবির ● ব্যবসার জন্য ২০ লাখ টাকা পাবেন তরুণরা, আবেদনের করবেন যেভাবে ● জাতীয় প্রেসক্লাবের মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ● রাজধানীর মাতুয়াইল বাজারে জবির বাসে আগুন ● ফেসবুকে বিনা খরচে ভেরিফায়েড ব্যাজ, পাবেন না যাঁরা

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২
শেয়ার: mail
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনতামূলক কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে। এ নীতির মূল লক্ষ্য জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের জনগণ বা সরকারের স্বার্থ বিবেচনার আগে আমরা আমাদের নিজেদের জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছি—এটাই মূল পার্থক্য।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনগণকে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে রাখছি।’

শামা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুসৃত নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের স্বার্থই ছিল কেন্দ্রীয় বিবেচ্য বিষয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক বলয়ের দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশ তার স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশ একা নয়। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বাড়ানোই এ নীতির লক্ষ্য।

শামা বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের দেশগুলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’

এ নীতিকে ‘বাস্তববাদী ও বাস্তবভিত্তিক’ আখ্যা দিয়ে শামা বলেন, বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন, উৎপাদনকেন্দ্র প্রয়োজন, প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ প্রয়োজন।’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের জন্য কী ধরনের সুফল বয়ে আনবে, তার ভিত্তিতেই প্রতিটি অংশীদারিত্ব মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনলে আমরা যেকোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে যোগ দেব। বিষয়টি খুবই সহজ।’

ইন্দো-প্যাসিফিক উদ্যোগ এবং ব্রিকস, সার্ক ও বিমসটেকের মতো বহুপক্ষীয় জোট ও আঞ্চলিক কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামা বলেন, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ পরস্পরবিরোধী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোনো বিরোধ দেখি না।’

‘বন্ধু চাই, প্রভু নয়’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অধীনতামূলক প্রবণতা থেকে ইতিবাচক সরে আসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আগের সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল, যা কখনো কখনো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এ নীতি থাকলেও বাস্তবে আগের সরকার অধীনতামূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত না করেই আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দিয়েছিল।

এর বিপরীতে বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি সার্বভৌমত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্টের অর্থ হলো, অন্য সবকিছুর আগে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, তবে কোনো দেশের অধীনস্থ অবস্থান গ্রহণ করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নীতি হওয়া উচিত—বন্ধু চাই, প্রভু নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, সেটি আমাদের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু প্রভু হতে পারে না।’ সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, সমমর্যাদার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরকালে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দিকেই এগোচ্ছে। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’ তবে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে বাংলাদেশকে সামরিক জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক জোটে যোগ দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। তবে অর্থনৈতিক চুক্তি ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই অংশ নিতে পারি।’ তিনি অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্প্রসারণ, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

নিজের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শাকসবজি ও মাছের বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ফলে প্রচলিত রপ্তানি খাতের বাইরেও নতুন বাজার সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্প্রসারণ করতে হবে।’

কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য অভ্যন্তরীণ শক্তি জরুরি

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির ক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংহতি, কার্যকর সুশাসন এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বাইরের বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের খুবই সীমিত। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’

সাবেক এই কূটনীতিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর করার জন্য তিনটি বিষয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো জাতীয় শক্তির সংহতি, বাংলাদেশের প্রয়োজনের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থ সামলানোর কূটনৈতিক দক্ষতা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক আবেগের বশবর্তী না হয়ে কোন দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কী প্রত্যাশা করে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ ধরনের মূল্যায়নে আবেগ বা আবেগপ্রবণতার কোনো স্থান নেই। আমাদের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হতে হবে নিজেদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে।’

সার্ক পুনরুজ্জীবনে অগ্রাধিকার

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করা সরকারের আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, ‘সার্ককে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, কী ধরনের নীতি নেওয়া যেতে পারে এবং কী রোডম্যাপ গ্রহণ করা যায়—তা নিয়ে আমরা সার্কের সব দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

শামা জানান, সার্ক পুনরুজ্জীবনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সার্ক ও বিমসটেক উভয় সংস্থাকেই ভূমিকা রাখতে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘দুটি সংস্থাই পাশাপাশি কাজ করতে পারে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ভূরাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে এককভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করার চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র: বাসস

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

বিস্তারিত কমেন্টে