মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ৮:৩৫:২২
শিরোনাম
● এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় পরিবর্তন ● বাগাতিপাড়ায় তিন দিনের পুষ্টি প্রশিক্ষণ শুরু ● প্রবাসী তরুণীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ, শেরপুরে সংবাদ সম্মেলন ● অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারে চাকরি, আবেদন শেষ ১১ নভেম্বর ● ১৩ দিন ধরে হাসপাতালে অভিনেত্রী কল্পনা ● সচিব পদমর্যাদা পেলেন তিন নারী কূটনীতিক ● আলিমে ভর্তির সময় বেঁধে দিল মাদ্রাসা বোর্ড ● দুর্গাপূজায় জাবিতে টানা ১০ দিনের ছুটি ● বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের আভাস, ৪ বিভাগে বৃষ্টির শঙ্কা ● ৩১ দেশের পাইলট-ক্রুর ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে এয়ার ফ্রান্স ● এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় পরিবর্তন ● বাগাতিপাড়ায় তিন দিনের পুষ্টি প্রশিক্ষণ শুরু ● প্রবাসী তরুণীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ, শেরপুরে সংবাদ সম্মেলন ● অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারে চাকরি, আবেদন শেষ ১১ নভেম্বর ● ১৩ দিন ধরে হাসপাতালে অভিনেত্রী কল্পনা ● সচিব পদমর্যাদা পেলেন তিন নারী কূটনীতিক ● আলিমে ভর্তির সময় বেঁধে দিল মাদ্রাসা বোর্ড ● দুর্গাপূজায় জাবিতে টানা ১০ দিনের ছুটি ● বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের আভাস, ৪ বিভাগে বৃষ্টির শঙ্কা ● ৩১ দেশের পাইলট-ক্রুর ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে এয়ার ফ্রান্স

পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা, যা বলল অ্যামনেস্টি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১
শেয়ার: mail
পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা, যা বলল অ্যামনেস্টি

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, গভর্নরের শাসন জারি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, জরুরি পদক্ষেপের অজুহাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভিন্নমত দমন কিংবা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক বাবু রাম পান্ত বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নির্বিচারে আটক এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবর জরুরি অবস্থা জারির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা ভিন্নমত দমনের সুযোগ তৈরি করা যাবে না।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, অতীতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় সেখানে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বাবু রাম পান্ত বলেন, সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা থেকে পাকিস্তান সরকারের বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, জরুরি অবস্থার আওতায় নেওয়া সব পদক্ষেপের স্বাধীন তদারকি থাকতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত না হয় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গত ১১ অক্টোবর ফেডারেল মন্ত্রিসভার সুপারিশে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির অনুমোদন দেন। দেশটির সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাকিস্তান সরকারের দাবি, প্রদেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে প্রাদেশিক সরকারের সহযোগিতার ঘাটতিকেও জরুরি অবস্থা জারির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ফেডারেল সরকার।

জরুরি অবস্থার ফলে প্রদেশটির বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ও সিনেট। পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী সমাবেশ, সংগঠন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করার ক্ষমতাও পাবে ফেডারেল সরকার।

প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা ফেডারেল সংসদের হাতে ন্যস্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রীসহ প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও অ্যাডভোকেট জেনারেল তাঁদের পদ হারাবেন। এ ছাড়া বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রদেশটিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২০১৩ সাল থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর দলটি প্রাদেশিক পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।

জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তে প্রদেশটির নির্বাচিত সরকারের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পিটিআই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে ফেডারেল সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতিকে সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা, জবাবদিহি এবং জরুরি পদক্ষেপের স্বাধীন তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। সংস্থাটি বলেছে, যেকোনো জরুরি ব্যবস্থা অবশ্যই পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা, যা বলল অ্যামনেস্টি

বিস্তারিত কমেন্টে