শুধু রাজনৈতিক সংস্কার করে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়; আমলাতন্ত্রসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাঁর মতে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অভাবেই অতীতে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং সরকারের জবাবদিহি বাড়াতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এরপরও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে ওঠেনি। তাঁর মন্তব্য, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘাটতির কারণে একপর্যায়ে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, শুধু সরকারের রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নিশ্চিত হবে না। রাষ্ট্রকে সুশৃঙ্খল ও কার্যকর ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হলে আমলাতন্ত্রসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারি কাজে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে বা বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তব্যে সরকারের জবাবদিহি বাড়ানোর উপায় হিসেবেও ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কায়সার কামাল। তিনি সংসদকে রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সমন্বয়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব।
kalprakash.com/IM