সুন্দরবনের গভীরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ২১ জেলের পাঁচ দিন পার হলেও তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি। গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমড়ারিয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকার আশপাশে কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারে সশস্ত্র হামলার পর জেলেদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে সশস্ত্র ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথে নজরদারি করা হচ্ছে। তবে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নিখোঁজ ২১ জেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে সুন্দরবনের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের নৌযানে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা জেলেদের জিম্মি করে মাছ ধরার সরঞ্জাম, মুঠোফোন ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলারও নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের কোনো খবর না পাওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দ্রুত জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
জেলেদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় মহাজনেরাও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মহাজন জানান, দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ ও দর-কষাকষির চেষ্টা চলছে। তবে মুক্তিপণের দাবির পরিমাণ সম্পর্কে তাঁরা কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান না পাওয়ায় সুন্দরবনে অবস্থানরত অন্য জেলেদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মাছ ধরার এলাকায় কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ জেলেদের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে থাকা এবং বন বিভাগের অফিস ও টহল ফাঁড়ির কাছাকাছি অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে নৌপথে তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ২১ জেলের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। নিখোঁজ জেলেদের দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের স্বজনেরা।
kalprakash.com/IM