কৃষি খাতের জরুরি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সম্মত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ির ফলে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়া এবং ফসল তোলার কাজে ব্যাঘাত ঘটার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ)।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় গম, বার্লি ও ক্যানোলা রপ্তানিকারক দেশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই তিন ধরনের ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা এবং এসব ফসল ঘরে তুলতে দেশটির অনেক খামারই অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে।
এক বিবৃতিতে জিপিএ জানিয়েছে, বছরে অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকহারে কমানোর নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এর প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতের সংগঠনগুলোকে জরুরি শ্রমিকের আবেদন অগ্রাধিকার দিয়ে প্রক্রিয়াকরণের জন্য জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জিপিএর চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন এই উদ্যোগকে একটি সমাধান বলে উল্লেখ করে সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, কতসংখ্যক ভিসা এর মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে এবং এতে দ্রুত ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ম্যাডেন বলেন, প্রক্রিয়াটি বাস্তবে কীভাবে কাজ করে তা তারা পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন কৃষকদের কাছে এমন একটি ব্যবস্থা থাকবে, যার মাধ্যমে ফসল কাটার মৌসুমে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিকদের আনা সম্ভব হবে।
সরকারের নতুন ব্যবস্থায় ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।
কৃষি খাতের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, খামার ও অন্যান্য গ্রামীণ ব্যবসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ‘ওয়ার্কিং হলিডে মেকার’ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে।
kalprakash.com/IM