রংপুরের মিঠাপুকুরে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় একের পর এক অভিযান, জরিমানা ও উৎপাদনসামগ্রী ধ্বংস করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই আবার শুরু হয়ে যাচ্ছে সেই কার্যক্রম। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানাই কি যথেষ্ট, নাকি অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর আইন প্রয়োগ।
ভেজাল গুড় উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ থামছেই না। ভেজাল গুড় উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও একই কার্যক্রম প্রতিনিয়ত চলছে, যা প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাট, পশ্চিম গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি খামার পাড়ায় ক্ষতিকর রং, ডাই, সিঁদুর, পচা মিষ্টান্ন, মিষ্টির শিরা, মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি ও বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে রাতভর গুড় উৎপাদন চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরও বড় পরিসরে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানা গেছে, যেখানে প্রশাসনের সঠিক নজরদারি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, ফুলচৌকি খামার পাড়া এলাকার মুকুল ও হানিফ মিয়া এবং পশ্চিম গেনার পাড়ার মোরছালিম ইসলাম ছোটন, নালু মিয়া ও মোকলেছার দীর্ঘদিন ধরে এই ভেজাল গুড় উৎপাদন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের নেতৃত্বে গত মাসে টানা চারবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও ভেজাল গুড় উৎপাদন কার্যক্রম বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান চলাকালে কিছু সময়ের জন্য তৎপরতা দেখা গেলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে অসাধু উৎপাদনকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়ে বরং তাঁরা নতুন কৌশলে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি খাদ্যপণ্য নিয়ে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরও এ ধরনের কার্যক্রম কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, উৎপাদনস্থল পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। প্রশাসনকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে ভেজাল গুড় উৎপাদনের মূল উৎস চিহ্নিত করে কারা কোথায় উৎপাদন করছে এবং কীভাবে বাজারজাত করছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
kalprakash.com/IM