কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের হত্যাকাণ্ডে আটক তুহিনের সঙ্গে অপ্রতীমের বন্ধুত্ব ছিল অসম। তুহিন পড়াশোনা ছেড়ে ড্রপআউট হলেও অপ্রতীম ছিল কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হওয়া বাকিরাও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক তদন্তে অপ্রতীমের আইফোন নেওয়াকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতীম হত্যার ঘটনায় আটক তুহিন ও অন্যদের অতীত রেকর্ড যাচাই করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাইক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রচার হলেও থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা মামলা পাওয়া যায়নি। তবে অপ্রতীমের আইফোনটি তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আইফোন কেড়ে নেওয়াই হত্যার একমাত্র কারণ কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পুলিশ জানায়, এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে তাঁরা বসবাস করেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যায়ও না ফিরলে তাকে খুঁজতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনা জানাজানি হলে কিশোর অপ্রতীমকে খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের অনেকে যোগ দেন। পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
kalprakash.com/IM