দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব পাচ্ছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক ও বড় নদীর ওপর সেতু নির্মাণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ট্রাংক হাইওয়ে নেটওয়ার্কের নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
এ কাজে ব্যয় হবে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। পুরো অর্থই অনুদান হিসেবে দেবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা তৈরিতে চীনের ২০ জন পরামর্শক নয় মাস কাজ করবেন।
তবে বিদ্যমান সড়ক মহাপরিকল্পনাকে ঘিরে নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের একটি সমন্বিত সড়ক মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ এরই মধ্যে অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সেই পরিকল্পনা এখনো সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি। এর মধ্যেই একই ক্ষেত্র নিয়ে নতুন আরেকটি পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের কার্যপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এর ব্যয় ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা অনুদান হিসেবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আসবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র, বড় শহর, শিল্পাঞ্চল ও বন্দরগুলোকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ট্রাংক মহাসড়ক নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বড় নদীগুলো চিহ্নিত করে সেতু নির্মাণের অগ্রাধিকার তালিকা করা হবে।
কোন সড়ক বা সেতু আগে নির্মাণ করা প্রয়োজন, কোনটি পরে করা হবে এবং এসব অবকাঠামো নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে—এসব বিষয়ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চীন সরকার এ কাজের জন্য হেনান কমিউনিকেশনস প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট কোম্পানি লিমিটেডকে পরামর্শক হিসেবে মনোনীত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন পরামর্শক নয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা তৈরির কাজ করবেন।
নতুন পরিকল্পনায় শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তসীমান্ত যোগাযোগ, বহুমুখী পরিবহনব্যবস্থা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। অগ্রাধিকার পাওয়া ট্রাংক করিডরগুলোর জন্য বিনিয়োগের পথনকশাও তৈরি করা হবে।
এর ফলে কোন করিডরে কী ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন এবং কোন প্রকল্প কোন পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা উচিত, সে বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো পাওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের ২৬ জুন একটি বাস্তবায়ন চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের বিন্যাস, বিদ্যমান মহাসড়কের অবস্থা ও যান চলাচল বিশ্লেষণ, বড় নদী পারাপারের জন্য সেতু চিহ্নিতকরণ এবং সড়ক ও সেতু নির্মাণের পর্যায়ক্রমিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘চীনের অনুদানে প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের জন্য নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা পরামর্শক এই কাজ করলেও সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এটি পর্যবেক্ষণ করবে। তাদের এক্সপার্ট ও আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়েই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।’
kalprakash.com/IM