মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজী নূর হোসেন নবীর বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে উদ্ধারের পরও তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে ইউপি সদস্যের স্বজনের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে পরিবারের অজান্তেই পুনরায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জিয়াসমিন আক্তারের অভিযোগ, গত ১৮ আগস্ট তাঁর মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি বেতকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূর হোসেন নবীকে জানানো হয়। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত তরুণ ওই ইউপি সদস্যের আত্মীয়।
জিয়াসমিন আক্তার জানান, মেয়েকে উদ্ধারের পর পুলিশকে অবহিত করা হলেও তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। পরে টঙ্গীবাড়ী থানার এসআই ওসমানকে সঙ্গে নিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে হাজির করার দাবি জানানো হয়। এরপর সাত্তার নামে এক ব্যক্তি ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু থানায় অভিযোগ থাকায় মেয়েটিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান তিনি। তবে তা না করে ওই রাতে কিশোরীকে ইউপি সদস্যের ভাইয়ের বাড়িতে রাখা হয় এবং পরিবারের অজান্তেই সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য হাজী নূর হোসেন নবী বলেন, সামাজিকতার কথা বিবেচনা করেই কিশোরীকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় দেওয়া হয়নি। তবে মেয়েটি বর্তমানে যেখানেই থাকুক, অভিভাবকরা চাইলে খোঁজ নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা (মামলা নং- ২০৭/২০২৬) চলমান রয়েছে। বিষয়টি এখন বিজ্ঞ আদালতের বিচারাধীন।
kalprakash.com/IM