ইরানে আপাতত নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মিত্রদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর পরিবর্তে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক চাপ বাড়ানোর দিকেই ওয়াশিংটন মূল মনোযোগ দেবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
মঙ্গলবার অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন এক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক কয়েকটি কূটনৈতিক ফোনালাপে রুবিও বিদেশি মিত্রদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বর্তমান অবস্থান ও কৌশল স্পষ্ট করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত সরাসরি নতুন সামরিক অভিযান না চালিয়ে ইরানের ওপর বহুমুখী অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করা হবে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ এবং ট্রেজারি বিভাগের ঘোষিত নতুন নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগকে পুরোদমে কাজে লাগাতে চায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে ওয়াশিংটনের।
অ্যাক্সিওসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন আপাতত বড় ধরনের সামরিক অভিযানে জড়ানোর পরিকল্পনা করছে না। তবে ইরান যদি প্রথমে আক্রমণ করে, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।
আরেক মার্কিন কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমকে সংঘাতের সম্ভাব্য মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে কৌশলগতভাবে চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান হাতিয়ার অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক চাপের কৌশলটি আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পর্যালোচনায় আসতে পারে।
তবে হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র মাইন অপসারণ করেছে—এমন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
মঙ্গলবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মার্কিন বাহিনী কর্তৃক প্রণালির মাইন পরিষ্কার করা কিংবা মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার খবর সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে যে মাইনগুলো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়েছে, তাহলে সেখানে কোনো মার্কিন জাহাজ প্রবেশ করছে না কেন? এসব মাইনের প্রকৃত অবস্থান ইরান ছাড়া আর কারও জানা নেই।’
ঘারিবাবাদি আরও সতর্ক করে জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন মাইন অপসারণকারী কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে সেগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। তাঁর দাবি, মাইন পরিষ্কারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক বাজারকে শান্ত রাখার কৌশল মাত্র।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
kalprakash.com/IM