চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অচলাবস্থা নিরসন এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় অনুসন্ধানে দিনব্যাপী ইরান সফর সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানের চিফ অব আর্মি স্টাফ ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়। খবর জিও নিউজের।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ইরানে পৌঁছালে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও মোহসিন নাকভিকে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনিসহ শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা স্বাগত জানান।
সফরকালে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসউদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম লিডারের প্রতিনিধি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি মোহসেন রেজায়ি, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং সংঘাতের দ্রুত অবসানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত পোষণ করে। সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব।
আসিম মুনিরের সফরসঙ্গী পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরানে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা স্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে।
মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মোহসিন নাকভি বলেন, ‘ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির এবং আমার সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা। এর পাশাপাশি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরুদ্ধারের জন্য উভয় পক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির দিকে নিয়ে যাবে।’
তিনি আরও জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট খোলামেলাভাবে তাঁর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। এসব বিষয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং বৈঠকটি ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। এই অগ্রগতি অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
kalprakash.com/IM