শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১২:৩২:১৫

নায়করাজ রাজ্জাকের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২২
শেয়ার: mail
নায়করাজ রাজ্জাকের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম, আব্দুর রাজ্জাক। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা আর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তাঁকে এনে দিয়েছিল ভালোবাসার এক বিশেষ উপাধি—নায়করাজ। আজ (২১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি অভিনেতার নবম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০১৭ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্জাক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। সময় পেরিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে আজও সমান উজ্জ্বল নায়করাজের স্মৃতি। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

কলকাতা থেকে ঢাকায়, তারপর নায়করাজ হয়ে ওঠা ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। কলকাতার থিয়েটারে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবন।

সিনেমার নায়ক হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে নিয়ে যায় মুম্বাইয়ে। ১৯৫৯ সালে সেখানে ফিল্মালয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন তিনি। পরে কলকাতায় ফিরে শিলালিপিসহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি।

নতুন শহরে শুরু হয় জীবনের নতুন লড়াই। মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দেশের চলচ্চিত্রের নায়করাজ। বাংলাদেশে এসে মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্রের পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের সহযোগিতায় ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি। ১৯৬৬ সালে ১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর এ দেশের চলচ্চিত্রযাত্রা। এরপর কার বউ ও ডাক বাবু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।

তবে তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় জহির রায়হান পরিচালিত বেহুলা। এই চলচ্চিত্রে লখিন্দরের চরিত্রে সুচন্দার বিপরীতে প্রথমবার নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন রাজ্জাক। ছবিটি মুক্তির পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

স্বাধীনতার পর রাজ্জাক যুগ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজ্জাক অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র মানুষের মন ব্যাপক ব্যবসাসফলতা পায়। এর মধ্য দিয়েই ঢাকাই চলচ্চিত্রে শুরু হয় রাজ্জাক যুগ। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন, ছন্দ হারিয়ে গেল ও অবুঝ মনের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশের শীর্ষ তারকায় পরিণত হন।

ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে সত্তর ও আশির দশকজুড়ে ছিল তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা। ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেন তিনি। অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দর্শকের দেওয়া নায়করাজ উপাধিটিই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।

মৃত্যুবার্ষিকীতে পারিবারিক আয়োজন নায়করাজের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাকের ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট গণমাধ্যমকে জানান, বাবার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে কোরআন খতম, বাদ ফজর কবর জিয়ারত ও বাদ আসর পরিবারের সবাই মিলে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে খায়রুন নেসা লক্ষ্মীর সঙ্গে দাম্পত্যে তিন পুত্র ও দুই কন্যার জনক ছিলেন রাজ্জাক। তাঁর দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও খালিদ হোসেন সম্রাটও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। জীবনের শেষভাগে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নায়করাজ রাজ্জাকের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিস্তারিত কমেন্টে