বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করাই কমিটির মূল দায়িত্ব। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নবম পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে এর আর্থিক প্রভাবকে। বেতন বাড়ানো হলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে সরকার পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত না করে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারিত হারে বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।
পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন হবে।
এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন তাদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—সেদিকে।