দেশের মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ব্যতিক্রমধর্মী একটি পাইলট প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এই প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তবে আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী সরকার পরিচালনা করছি, যেখানে দলমত-নির্বিশেষে সব মানুষের সেবা করা হবে। সরকারি সুবিধা পেতে এখন আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ—সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।”
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, “আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে তদবির করেছে, কিন্তু আমরা তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি। অথচ জামায়াতের নেতারা আজ আদ-দ্বীনের পক্ষে সাফাই গাইছেন।”
চিকিৎসা খাতের বড় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চীনের সহযোগিতায় দেশে তিন হাজার শয্যাবিশিষ্ট দুটি সর্বাধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালে বিশেষ করে শিশু ও নারীদের চিকিৎসাসেবার জন্য বিশ্বমানের সুবিধা রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা এবং পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল হান্নানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভা শেষে মনোহরদী পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের দুই শতাধিক অভাবী, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।
সাইফুর রহমান নিশাদ, মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি 





















