বাংলাদেশ ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নিজ জেলায় মহানগর পুলিশে আর দায়িত্ব নয়, শতাধিক সদস্যের বদলির সিদ্ধান্ত Logo নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা Logo চাটমোহরে মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে সাইলেন্সারে অতিষ্ঠ জনজীবন Logo মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী মানবিক সহায়তা কর্মসূচি Logo রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ছাত্রলীগ–যুবলীগসহ গ্রেপ্তার ৫ Logo জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo সিএমপির সাইবার সাপোর্ট অ্যান্ড রেসপন্স সেন্টারের উদ্বোধন Logo শর্ত পূরণ করলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে সবাই: জাহেদ উর রহমান Logo চিতলমারীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার Logo ভেজাল দুধ ব্যবসায়ী মমিনের ফাঁসির দাবিতে চাটমোহরে মানববন্ধন

পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে

গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো ও সুস্বাদু আমের মৌসুম। স্বাদ ও ঘ্রাণের জন্য ফলটির জনপ্রিয়তা যেমন তুঙ্গে, তেমনি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা নানা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আমে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র, চোখ ও হজমতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

১. হজমশক্তি উন্নত করে

আমে থাকা ফাইবার ও পেকটিন হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। ফলে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে।

২. চোখের সুরক্ষায় কার্যকর

আমে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে চোখের পাশাপাশি ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারও উপকার করে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় আম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। নিয়মিত আম খেলে সংক্রমণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।

৪. হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়

আমে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এটি শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৫. হাড় ও জয়েন্ট সুস্থ রাখে

ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা হাড়, লিগামেন্ট, কার্টিলেজ ও ত্বকের গঠন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আম শরীরের গঠনগত স্বাস্থ্য রক্ষাতেও অবদান রাখে।

৬. আয়রন শোষণে সাহায্য করে

উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে শোষিত হতে ভিটামিন সি প্রয়োজন হয়। আমে থাকা ভিটামিন সি এ কাজে সহায়তা করে, ফলে আয়রনের ঘাটতি মোকাবিলায় এটি উপকারী হতে পারে।

এক কাপ আমে কী কী পুষ্টি থাকে?

  • ক্যালরি: প্রায় ৯৯
  • কার্বোহাইড্রেট: ২৫ গ্রাম
  • ফাইবার: ৩ গ্রাম
  • প্রাকৃতিক চিনি: ২২.৫ গ্রাম
  • প্রোটিন: ১ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৬০ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম: ২৭৭ মিলিগ্রাম
  • এছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬সহ আরও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান

ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম খেতে পারবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও পরিমিত পরিমাণে আম খেতে পারেন। তবে আম খাওয়ার সময় প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

কারা সতর্ক থাকবেন?

বেশিরভাগ মানুষের জন্য আম নিরাপদ। তবে কিছু মানুষের আমের খোসায় অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যাদের কাশুবাদাম বা একই ধরনের উদ্ভিদে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া ভালো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, আম শুধু গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফলই নয়, বরং এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

kalprakash.com/SAS

সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে
জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ জেলায় মহানগর পুলিশে আর দায়িত্ব নয়, শতাধিক সদস্যের বদলির সিদ্ধান্ত

পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে

প্রকাশিত: ১১:৪৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো ও সুস্বাদু আমের মৌসুম। স্বাদ ও ঘ্রাণের জন্য ফলটির জনপ্রিয়তা যেমন তুঙ্গে, তেমনি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা নানা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আমে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র, চোখ ও হজমতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

১. হজমশক্তি উন্নত করে

আমে থাকা ফাইবার ও পেকটিন হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। ফলে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে।

২. চোখের সুরক্ষায় কার্যকর

আমে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে চোখের পাশাপাশি ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারও উপকার করে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় আম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। নিয়মিত আম খেলে সংক্রমণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।

৪. হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়

আমে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এটি শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৫. হাড় ও জয়েন্ট সুস্থ রাখে

ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা হাড়, লিগামেন্ট, কার্টিলেজ ও ত্বকের গঠন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আম শরীরের গঠনগত স্বাস্থ্য রক্ষাতেও অবদান রাখে।

৬. আয়রন শোষণে সাহায্য করে

উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে শোষিত হতে ভিটামিন সি প্রয়োজন হয়। আমে থাকা ভিটামিন সি এ কাজে সহায়তা করে, ফলে আয়রনের ঘাটতি মোকাবিলায় এটি উপকারী হতে পারে।

এক কাপ আমে কী কী পুষ্টি থাকে?

  • ক্যালরি: প্রায় ৯৯
  • কার্বোহাইড্রেট: ২৫ গ্রাম
  • ফাইবার: ৩ গ্রাম
  • প্রাকৃতিক চিনি: ২২.৫ গ্রাম
  • প্রোটিন: ১ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৬০ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম: ২৭৭ মিলিগ্রাম
  • এছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬সহ আরও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান

ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম খেতে পারবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও পরিমিত পরিমাণে আম খেতে পারেন। তবে আম খাওয়ার সময় প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

কারা সতর্ক থাকবেন?

বেশিরভাগ মানুষের জন্য আম নিরাপদ। তবে কিছু মানুষের আমের খোসায় অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যাদের কাশুবাদাম বা একই ধরনের উদ্ভিদে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া ভালো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, আম শুধু গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফলই নয়, বরং এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

kalprakash.com/SAS

সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে