সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৬:৪৩:৫০
শিরোনাম
● ব্র্যাকে চাকরি, বিমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ নানা সুবিধা ● জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ● চিতলমারীতে ডেঙ্গুর বিস্তার, ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম ● বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রাম ● সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির ● একযোগে ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ● দেরিতে ই-রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা কত, জানার উপায় ● বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উদ্যাপন ● মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে পিটিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ ● ফুটপাতের দাবিতে কুড়িগ্রামে মহাসড়কে হাজারো মানুষের মানববন্ধন ● ব্র্যাকে চাকরি, বিমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ নানা সুবিধা ● জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ● চিতলমারীতে ডেঙ্গুর বিস্তার, ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম ● বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রাম ● সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির ● একযোগে ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ● দেরিতে ই-রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা কত, জানার উপায় ● বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উদ্যাপন ● মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে পিটিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ ● ফুটপাতের দাবিতে কুড়িগ্রামে মহাসড়কে হাজারো মানুষের মানববন্ধন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভারতের ৩ দফা প্রস্তাব, কী আছে পরিকল্পনায়?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩
শেয়ার: mail
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভারতের ৩ দফা প্রস্তাব, কী আছে পরিকল্পনায়?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে ভারত। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ, কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ বন্ধের মতো বিষয় নিয়ে তিন দফা যুদ্ধবিরতি কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। এই উদ্যোগ সফল হলে যুদ্ধের ময়দানের বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্যবাণিজ্য ও সামুদ্রিক পরিবহনেও স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে মস্কো ও কিয়েভের সম্মতি ছাড়া প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ এখনো অনিশ্চিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য যুদ্ধের পুরোপুরি অবসান ঘটানোর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা কমিয়ে আনা। প্রস্তাবিত কাঠামোয় রয়েছে তিনটি বিষয়:

জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ: রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ বন্ধ করে সরবরাহব্যবস্থার ক্ষতি কমানো।

কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল: বন্দরগুলোর মাধ্যমে খাদ্যশস্য ও জ্বালানি পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখা।

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ: আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের সময় ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ভারতের উদ্যোগকে আলোচনায় থাকা চারটি প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত বলে উল্লেখ করেছেন। এতে জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সীমিত পরিসরে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে কিয়েভের আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সংগত শান্তি চুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। রাশিয়ার আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইউক্রেন নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে। ফলে ভারতের উদ্যোগ আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করলেও দুই পক্ষের কৌশলগত মতপার্থক্য এর বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্যশস্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক পরিবহনব্যবস্থায় অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তেলের পাশাপাশি অন্যান্য জ্বালানিপণ্যের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

ভারত দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হওয়ায় জ্বালানি আমদানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭ শতাংশে উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নয়াদিল্লির অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরেই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটি ভারতসহ অন্য দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য ও সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

দুই দেশের জ্বালানি সম্পর্ক এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, উভয় বিষয়ই সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে ভারতের আগ্রহ ব্যাখ্যা করতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ঘিরে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য এক নয়। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের একটি হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা। তুরস্ক কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে আগ্রহী। অন্যদিকে, মিসরের জন্য ইউক্রেনীয় শস্যের সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের প্রস্তাবকে তুলনামূলক বিস্তৃত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, কারণ এতে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, খাদ্য সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নয়াদিল্লিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগও দিতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন, দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রাখার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভারত সীমিত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

ভারতের উদ্যোগের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, রাশিয়া ও ইউক্রেন, কোনো পক্ষই এখনো নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করেছে বলে মনে করে না। ফলে সামরিক চাপ বজায় রেখে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার প্রবণতা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলছে।

তারপরও জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হামলার বাইরে রাখার মতো সীমিত সমঝোতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এতে পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি না হলেও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি কমানো এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, মস্কো ও কিয়েভ সামরিক লক্ষ্যগুলোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিকেও কতটা গুরুত্ব দেয়। দুই পক্ষের সম্মতি মিললে ভারতের প্রস্তাব বৃহত্তর শান্তি আলোচনার একটি ভিত্তি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একে বাস্তবায়নাধীন যুদ্ধবিরতি না বলে একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা উচিত।

সূত্র: দ্য এশিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্ট

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভারতের ৩ দফা প্রস্তাব, কী আছে পরিকল্পনায়?

বিস্তারিত কমেন্টে