ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মুগ্ধ সরোবরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল, ক্রেস্ট ও চাবির রিং দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইনসানুল ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ। প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক সিলভিয়া খানম ও ফাইন আর্টস বিভাগের অধ্যাপক অনিন্দিতা হাবিব।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য সুদৃঢ় করাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্বাগত জানানো এবং তাঁদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। এ পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে নবীনদের একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিজেকে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়। একই সঙ্গে আমাদের জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুনাম ধরে রাখার দায়িত্বও সবার।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মূল লক্ষ্য যেন শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করাই হওয়া উচিত প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন জরুরি। নিজের যে বিষয়ে পারদর্শিতা রয়েছে, সে বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি লিংকডইন, বিডিজবসসহ পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকা এবং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় যোগ্যতার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতাও ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভালো ফলাফলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সিজিপিএ ও যোগাযোগ দক্ষতা বিবেচিত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। ইসলামের প্রথম বার্তাগুলোর একটি হলো “ইকরা”, অর্থাৎ পড়ো। জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বাবা-মা, শিক্ষক ও অন্যদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।’
kalprakash.com/IM