সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তৃতীয় দিনের মতো শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি চলছে। এর পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধন আয়োজন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই দিন সন্ধ্যায় তাঁরা প্রতিবাদী মশাল মিছিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমিমুল ইহসান, সাদিয়া আক্তার ও যুলকারনাইন মিহাদ।
তাঁরা বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মাত্র ৫৬ দিন আগে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁদের আপত্তি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে ঘিরে নয়; তাঁদের একমাত্র দাবি, সদ্য জারি করা উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে জড়ো হন। বিভিন্ন ব্যাচ ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রীদেরও অংশগ্রহণ ছিল। এরপর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন, গণ-অবস্থান, বিক্ষোভ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে চুয়েটের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম সংহতি জানিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এতে চুয়েটের যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মালয়েশিয়ার অ্যালামনাইসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সমর্থনের কথা বলা হয়েছে।
তবে ঢাকার আইবি ভবনকেন্দ্রিক ‘চুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর নামে প্রকাশিত একটি বিবৃতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, ওই বিবৃতিতে তাঁদের ঘোষিত দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে দুই পক্ষকে সমান্তরালভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে কয়েকজন অ্যালামনাই ওই বিবৃতির বিষয়ে তাঁদের মতামত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া গতকাল বুধবার পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠানো এবং বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁদের একমাত্র দাবি পূরণ এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন, গণ-অবস্থান, গণস্বাক্ষর ও অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
kalprakash.com/IM