জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লাবিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের সমর্থকদের সঙ্গে সদস্য সচিব মামুন সরকারের কর্মী রাশেদুল হাসান রাতুলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র হাতে অগ্নিবীণা ও বিদ্রোহী হলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সূত্রপাত ঘটে। মধ্যরাতে এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল থেকে বিদ্রোহী হলে ধাওয়া দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টরিয়াল টিম তাৎক্ষণিকভাবে হলে নিরাপত্তা জোরদার করে এবং পুলিশ সদস্যরা হলের সামনে সতর্ক অবস্থান নেন।
এর আগে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অনুসারীদের অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের নেতৃত্বে একটি মিছিল প্রদক্ষিণ করে। নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, সেই মিছিল বানচাল করতেই অপর পক্ষের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
সংঘর্ষের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, “ঘটনার শুরুতে আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। ক্যাম্পাসে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা আমরা সমর্থন করি না। হয়তো ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটি পক্ষ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ জানান, “আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দোসররা যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য তৈরি করতে বা অনুপ্রবেশ ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে প্রক্টরিয়াল টিম ও প্রশাসনের তৎপরতায় বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।”
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রধান প্রবেশদ্বারসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুলফিকার আলী জানান, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
kalprakash.com/IM