পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় মেহেদী হাসান আকিব (১৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে নাটোরের লালপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মেহেদী হাসান আকিব ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া গ্রামের মো. আনিসুর রহমানের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর ফিরে আসেননি আকিব। বুধবার ভোরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি অটোরিকশায় করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী নেওয়ার পথে লালপুর পৌঁছালে আকিবের মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা আনিসুর রহমান অভিযোগ করেন, আকিবের শরীরে মারধরের স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, নিহতের শরীরে কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে মারধরের ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রচণ্ড মারধরের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আকিব ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদি হাসানের সমর্থক ছিলেন এবং তার শ্যালোইঞ্জিনচালিত নৌকা চালাতেন। সাঁড়া ও ইসলামপাড়া ঘাট এলাকায় বালুমহালের দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মেহেদি গ্রুপ ও কাঁকন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ওই বিরোধের জেরে কাঁকন গ্রুপের লোকজন আকিবকে নির্জন স্থানে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে এবং পরে হাসপাতালে ফেলে রেখে যায়।
kalprakash.com/IM