ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরের খাটের নিচের মাটির গর্ত থেকে ২৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। মাদক চোরাচালানের অভিনব এই আস্তানা উন্মোচনের পাশাপাশি রাসেল মিয়া ওরফে মাহিন (২০) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তবে অভিযানের সুযোগে তানভীর (২৫) নামে তাঁর এক সহযোগী সুকৌশলে পালিয়ে গেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চকবন্তা এলাকায় এ ঝটিকা অভিযান চালায় র্যাব-৯, সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের একটি দল।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের বড় একটি চালান মজুতের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কায়েমপুরের চকবন্তা গ্রামে রেললাইনের পূর্বে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ঘরে হানা দেয় র্যাব। আভিযানিক দলটির উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে রাসেলকে আটক করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দলটি। এ সময় তানভীর নামে তাঁর প্রধান সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত রাসেলকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি মাটির নিচে লুকানো মাদকের গুদামের কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিত্যক্ত ঘরের খাটের নিচের মাটি খুঁড়ে আটটি পাটের বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো ২৪টি বান্ডিলে মোট ২৬৪ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটককৃত রাসেল ও পলাতক তানভীর দীর্ঘ দিন যাবৎ কসবা সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক রুট দিয়ে গাঁজা চোরাচালান করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তা ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খুচরা ও পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করতেন তাঁরা।
এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে র্যাব-৯, সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মাহফুজার রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরপূর্বক কসবা থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
kalprakash.com/IM