পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী খান (৮০)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত রোববার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা হাসপাতালের সামনে ওষুধ কিনতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী খান জানান, তার সৎ ভাইয়ের ছেলে মো. মহাসিন খানসহ কয়েকজন মিলে অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে মহাসিন খানের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার, কন্যা সুমনা আক্তার সুমি এবং আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রায় এক বছর আগে একই পক্ষ তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি একজন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রাপ্ত। স্বাধীন দেশে জীবনের শেষ বয়সে এভাবে রক্তাক্ত হওয়ার বিচার আমি রাষ্ট্রের কাছে চাই।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে জসিমউদ্দীন খান পিরোজপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হোসেন বলেন, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হামলার খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধার খোঁজখবর নেন। তারা জানান, তিনি সুস্থ হলে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে।
পিরোজপুর প্রতিনিধি 





















