যশোরের বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লিসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকার লোকজন জানান, সড়কের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে আছে, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যশোরের শার্শা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা পাকা সড়কের মাঝামাঝি অংশে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে ভবেরবেড়, রাজাপুর, শিকড়ী, গয়ড়া, বালুন্ডাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের ওই অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পানির নিচে থাকা গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। সড়কটি বর্তমানে অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হওয়ায় ভোগান্তি বেড়ে যায়। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান বলে, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের অনেক স্থানে পানি জমে আছে। পানির মধ্য দিয়ে তাদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় পানিতে বই ও জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানায় সে।
আমিন উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ বলেন, সড়কটি এত খারাপ যে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না। কাদা-পানিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সাইকেল, ভ্যান, রিকশাও চলে না। হেঁটে হেঁটে বাজারে যেতে হয়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানান।
এ এলাকার ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত রিকশা) চালক তরিকুল ইসলাম জানান, এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে। এখানে সব সময় হাঁটুপানি জমে থাকে। এ সড়কে গাড়ি নিয়ে চলাচল করলে মোটরে (ইঞ্জিনে) পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে বাজারে ইজিবাইক রেখে হেঁটে বাড়ি যান, আবার হেঁটে বাজারে এসে ইজিবাইক চালান। সড়কটি ভালো হলে এলাকার মানুষের উপকারের পাশাপাশি তাঁদের আয়ও বাড়বে। তিনি খুব কষ্টে আছেন বলে জানান এবং দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের দাবি করেন।
যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে এলাকার লোকজনের কষ্ট হচ্ছে। কষ্ট লাঘবে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু করে সমস্যার সমাধান করা হবে।
kalprakash.com/IM