সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানত না বাংলাদেশ সরকার। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা। এরপর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেয়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি কনস্যুলেটের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) বুধবার (১৩ অক্টোবর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে তাআজির বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ রায় দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন প্রয়োগে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানায়। পাশাপাশি পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও জানা গেছে।
কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয়ই কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের পক্ষভুক্ত দেশ। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো দেশের নাগরিক গ্রেপ্তার হলে আটককারী দেশকে বন্দীর অনুরোধে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানাতে এবং কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ দিতে হয়।
তবে এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
kalprakash.com/IM