ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা বা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকেই ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিআইএন সার্টিফিকেট নিয়ে থাকেন। পরে প্রয়োজন না থাকলেও অনেকের টিআইএন সক্রিয় থেকে যায়। এতে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু টিআইএন ব্যবহার করছেন না, এমন কারণে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। নির্ধারিত কারণ ও শর্ত পূরণ করতে হয়।
কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিল করা যায়
নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। যেমন:
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে সংশ্লিষ্ট টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে।
ভুল করে একাধিক টিআইএন হলে: একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় একটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।
টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে, প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।
করযোগ্য আয় না থাকলে: আয় কমে গিয়ে করযোগ্য সীমার বাইরে চলে গেলে এবং টিআইএন রাখার প্রয়োজন না থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি: কোনো বাংলাদেশি দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে এবং বাংলাদেশে তাঁর করযোগ্য আয় না থাকলে, প্রযোজ্য শর্তে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।
করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতা মারা গেলে তাঁর টিআইএন বাতিলের জন্য উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আবেদন করা যায়। তবে মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম থাকলে বিষয়টি আগে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।
অনলাইনে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন যেভাবে
টিআইএন বাতিলের প্রক্রিয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:
১. প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. আপনার ই-টিআইএন অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
৩. টিআইএন বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণ করুন।
৪. ফরমে টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য এবং টিআইএন বাতিলের কারণ উল্লেখ করুন।
৫. প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদনটি জমা দিন।
৬. আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আবেদন অনুমোদিত হলে টিআইএন বাতিলের বিষয়টি জানানো হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাতিলের সনদ দেওয়া হবে।
অনলাইনে সম্ভব না হলে কী করবেন
অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর অফিসে যোগাযোগ করে টিআইএন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিতে হতে পারে।
ব্যবসা বন্ধের কারণে আবেদন করা হলে ব্যবসা বন্ধসংক্রান্ত প্রমাণপত্রও প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে, সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী আগের আয়কর রিটার্ন বা অন্যান্য নথি চাইতে পারে।
টিআইএন বাতিলের পর কী হবে
আবেদন অনুমোদিত হলে টিআইএন বাতিল করা হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাতিলের সনদ দেওয়া হবে। এরপর বাতিল হওয়া টিআইএন দিয়ে আয়করসংক্রান্ত কোনো কাজ করা যাবে না।
তবে টিআইএন বাতিল করার আগে বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ ভবিষ্যতে আবার টিআইএনের প্রয়োজন হলে নতুন করে আবেদন করতে হতে পারে।
তাই শুধু রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিল না করে নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ, ব্যবসা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর অফিস বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
kalprakash.com/IM