রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস ও নব্বইয়ের দশকের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’ আগামী অক্টোবর মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এর পরিচালক মুনতাসির আকিব।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ কলা ভবনের সামনে চলচ্চিত্রটির মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক আরিফ হায়দার, অভিনেতা মিঠু ও চলচ্চিত্রটির পরিচালক মুনতাসির আকিবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিনেতা মিঠু বলেন, ‘আশির দশকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক আন্দোলন নব্বইয়ের দশকে এসে পূর্ণতা পায়। নব্বইয়ের দশক ছিল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সোনালি যুগ। সে সময়ের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ও আন্দোলনের ইতিহাসকে কেন্দ্র করেই ‘চিরকুট’ নির্মাণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস চলচ্চিত্রটিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্র প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই গড়ে উঠেছিল। সমকাল নাট্যচক্রকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের সম্পৃক্ত করে চলচ্চিত্রটির কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
মিঠু আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সিনেমাটি তৈরি করেছে। ডাবিং করতে গিয়ে সিনেমাটির মান দেখে মুগ্ধ হয়েছি। শেষ পর্যন্ত চমৎকার একটি পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
অধ্যাপক আরিফ হায়দার বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে অনেক গল্প ছড়িয়ে রয়েছে। এসব গল্প নিয়ে নির্মাতাদের আরও কাজ করা উচিত। তিন বছর ধরে অনেক পরিশ্রম করে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উচিত এই সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করা।’
চলচ্চিত্রটির মুক্তির বিষয়ে পরিচালক মুনতাসির আকিব জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজার ষষ্ঠীতে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের সাতটি দেশে একযোগে ‘চিরকুট’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে সিনেমাটি সম্পন্ন করতে। কারিগরি নানা সমস্যার কারণে প্রথম ধাপে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
মুনতাসির আকিব জানান, চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শ্যামল মাওলা। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী এর অভিনয়, নির্মাণ ও অন্যান্য কারিগরি কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সিনেমাটি নির্মাণে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহীতে চলচ্চিত্র শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে পরিচালক বলেন, ‘রাজশাহী একটি আলাদা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে ওঠার সব ধরনের সক্ষমতা রাখে। এখানকার মানুষজন অত্যন্ত সহযোগিতাপরায়ণ। ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহীকেও দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।’
kalprakash.com/IM