বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীনা জনগণকে ‘অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে তিনি ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেওয়া কঠোর সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ সাবেক নেতা জিয়াং জেমিনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন শি।
কয়েক হাজার কর্মকর্তা ও দলীয় প্রতিনিধির সামনে শি জিনপিং বলেন, চীন বর্তমান কঠিন সময়ের মুখোমুখি হলেও কোনো সংকটের কাছে মাথা নত করবে না। উত্তাল সমুদ্র হোক বা ভয়াবহ ঝড়—অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা ও অসাধারণ সক্ষমতা দিয়ে বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায় রচনার ওপর জোর দেন তিনি।
ভাষণে চীনের অন্যতম স্পর্শকাতর ঐতিহাসিক ঘটনা ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন আন্দোলন দমনে জিয়াং জেমিনের ভূমিকা স্মরণ করেন শি জিনপিং। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়কার গুরুতর রাজনৈতিক অস্থিরতায় কমরেড জিয়াং কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করে সাংহাইসহ দেশজুড়ে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চীনের নেতৃত্ব দেওয়া জিয়াং জেমিনের আমলেই দেশটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দিয়ে অভাবনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শি জিনপিং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি সত্ত্বেও ‘চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ’ বাস্তবায়নে অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
kalprakash.com/IM