পাঁচ বছরের অবুঝ শিশু, মুড়ি, মলা, টোস্ট-বিস্কুট খাওয়া কথা বলে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা—এমন একটি ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের আবিরের পাড়া গ্রামের। শফিকুল ও এলিসা দম্পতির একমাত্র কন্যা শিশুর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি একই গ্রামের চা বিক্রেতা মন্টু মিয়া।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আবিরের পাড়া গ্রামের সাবেদ আলীর কন্যা এলিসার সাথে শানের হাট এলাকার শফিকুল ইসলামের কয়েক বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের কোলজুড়ে ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তান আসে। স্বামী শফিকুল ইসলাম পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। সেই সুবাদে তিনি কাজের ক্ষেত্রে শানের হাট এলাকায় থাকেন এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আসেন। এদিকে স্ত্রী ও সন্তান দুজনই তার শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। পারিবারিক অস্বচ্ছতার কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনই স্ত্রী এলিসার বাবার বাড়িতে গত ৫ বছর ধরে থাকছেন। দুজনেই আয়-রোজগার করে বসতবাড়ির জন্য একটুকরো জমি কিনেছেন।
গতকাল রবিবার, ৫ই এপ্রিল বিকেলবেলা, এলিনা বেগম তার ৫ বছরের অবুঝ শিশুকে নিয়ে আবিরের পাড়া সামাজিক বনায়নের রাস্তার ধারে খড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। তার সঙ্গে শিশুটি রাস্তার ধারে খেলাধুলা করছিল। এমন সময় রাস্তা দিয়ে অভিযুক্ত মন্টু মিয়া এসে শিশুটিকে কাছে টেনে বিভিন্ন ভাবভঙ্গিতে কথা বলে ফুসলিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অপ্রাকৃত ঘটনা ঘটায় এবং অবুঝ শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
কাজ শেষে সন্ধ্যায় এলিনা বেগম বাড়িতে এসে গোসলের উদ্দেশ্যে বাথরুমে গেলে তার অবুঝ শিশু ভয়ভীত কণ্ঠে জানায়, ‘আম্মু, আমার হিসু হচ্ছে না।’ তখন তার মা শিশুটিকে আদর করে সব শুনে নেন এবং চিৎকার করে তার মামী বুলবুলি বেগমকে সব বিষয় জানান।
মামী বুলবুলি বেগম ও মামা হামিদ মিয়া জানান, যে ঘটনা ঘটেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। তারা বলেন, তাদের নাতনী থেকে সব শুনেছেন।
মন্টু মিয়ার প্রতিবেশী চাচী জানান, ‘এয় খারাপের খারাপ। এর আগে আরও অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে, তার মধ্যে নিজের শালীকেও গর্ভবতী করেছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও অনেকেই জানান, ‘এ ধরনের ঘটনা ক্ষমার যোগ্য নয়, তার শাস্তি হওয়া উচিত।’
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে, এবং অবুঝ শিশু বাচ্চাটিকে তার মা সহ ভিকটিম সাপোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে।
মিঠাপুকুর প্রতিনিধি 

















