যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শিগগিরই, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তিনি বলেন, গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর ‘দ্রুত, নির্ণায়ক ও ব্যাপক’ আঘাত হেনেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযানে এমন বিজয় এসেছে যা আগে কম মানুষই দেখেছেন।
ট্রাম্পের ভাষণে বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেমকে ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণের ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এছাড়া ইরানের অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করা এবং পরমাণু বোমা তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করা। এই যুদ্ধ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।” ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র আঘাত আরও জোরদার করবে এবং ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া’ হতে পারে।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়েও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পথের ওপর নির্ভরতা নেই, বরং অন্যান্য দেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে, তাদেরই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। আমরা সহায়তা করব, কিন্তু নেতৃত্ব দিতে হবে তাদের।” তিনি যুদ্ধ শেষ হলে প্রণালী পুনরায় চালু হবে এবং জ্বালানির দাম কমে আসবে দাবি করেন।
ট্রাম্প ইরানের নতুন নেতাদের ‘কম উগ্রপন্থি ও বেশি যুক্তিসঙ্গত’ আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করছে। তবে হুঁশিয়ারি দিয়ে যোগ করেছেন, কোনো চুক্তি না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোতে আরও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের দাম যুদ্ধ শেষ হলেও কিছু সময় উচ্চ অবস্থায় থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল ও সিএনএন
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















