বাংলাদেশ ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুমিল্লায় দুই সাংবাদিককে হেনস্থা ও হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি প্রকাশে সিআরএ’র নিন্দা Logo শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন: “খেলি শুধুই ভালোবাসার জন্য, প্রমাণের জন্য নয়” Logo আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস: শিশুদের যত্নে সচেতনতা জরুরি Logo ভূমিকম্প ঘিরে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের খসড়া তালিকা প্রস্তুত: ত্রাণমন্ত্রী Logo ট্রাম্পের ভাষণের পর ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি করল Logo ইরান যুদ্ধ দুই-তিন সপ্তাহেই শেষ হবে: ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণ Logo মানবতাবিরোধী মামলায় ইনুর পুনঃতদন্তের আবেদন খারিজ Logo ইসলামিক প্রজাতন্ত্র দিবসে তেহরানে উড়ল ইরানের সর্ববৃহৎ পতাকা Logo ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও সন্তানের পরিকল্পনা: কী গ্রহণযোগ্য, কী হারাম Logo এপ্রিলে তেলের কোনো সংকট হবে না: নিশ্চিত জ্বালানি বিভাগ

অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রা: বাংলাদেশিরা মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার

ছবিঃসংগৃহীত

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশি মানবপাচার চক্রের হাতে বন্দী হয় এবং প্রায় ৮০ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হয়। এই তথ্য দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

সিআইডি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ১৫ থেকে ২০টি এজেন্সি চিহ্নিত করেছে। তবে মামলা হলেও অনেক দালাল জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলহোতাদের ধরতে না পারা এই দুর্দশার মূল কারণ।

বিদেশের রঙিন স্বপ্নে আকৃষ্ট হয়ে অনেক তরুণ অবৈধভাবে লিবিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ইউরোপে যেতে চায়। এক দশকে অন্তত ৭০ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার সময় ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অনেকে নৌকাডুবি, অপহরণ, নির্যাতন বা গুলিতে নিহত হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করেও অনেকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

মানবপাচার সংক্রান্ত বিশ্লেষক শরিফুল হাসান বলেন, “দেশে যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ না থাকলেও তরুণরা কেন বিদেশে যাওয়াকেই সফলতার মানদণ্ড মনে করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ৪,৪২৭টি মানবপাচার মামলার মধ্যে মাত্র ৯০৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে সিআইডির হাতে ৩১৬টি মামলা আছে, যার মধ্যে ৩১টি লিবিয়া কেন্দ্রিক। তবে জামিনে ছাড়া পেলে দালালদের আবার ধরার সুযোগ কম থাকে।

ব্র্যাকের সমীক্ষা অনুসারে, এই ধরনের যাত্রার অধিকাংশ তরুণ ঢাকার আশপাশ, মাদারীপুর ও সিলেট অঞ্চলের ১০-১২ জেলার বাসিন্দা। স্থানীয় দালালরা ৬০ শতাংশ পরিবারকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে ৮৯ শতাংশই কাজ পাননি। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬,২৬০ জন দেশে ফিরে এসেছে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় দুই সাংবাদিককে হেনস্থা ও হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি প্রকাশে সিআরএ’র নিন্দা

অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রা: বাংলাদেশিরা মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার

প্রকাশিত: ০৬:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশি মানবপাচার চক্রের হাতে বন্দী হয় এবং প্রায় ৮০ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হয়। এই তথ্য দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

সিআইডি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ১৫ থেকে ২০টি এজেন্সি চিহ্নিত করেছে। তবে মামলা হলেও অনেক দালাল জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলহোতাদের ধরতে না পারা এই দুর্দশার মূল কারণ।

বিদেশের রঙিন স্বপ্নে আকৃষ্ট হয়ে অনেক তরুণ অবৈধভাবে লিবিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ইউরোপে যেতে চায়। এক দশকে অন্তত ৭০ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার সময় ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অনেকে নৌকাডুবি, অপহরণ, নির্যাতন বা গুলিতে নিহত হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করেও অনেকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

মানবপাচার সংক্রান্ত বিশ্লেষক শরিফুল হাসান বলেন, “দেশে যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ না থাকলেও তরুণরা কেন বিদেশে যাওয়াকেই সফলতার মানদণ্ড মনে করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ৪,৪২৭টি মানবপাচার মামলার মধ্যে মাত্র ৯০৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে সিআইডির হাতে ৩১৬টি মামলা আছে, যার মধ্যে ৩১টি লিবিয়া কেন্দ্রিক। তবে জামিনে ছাড়া পেলে দালালদের আবার ধরার সুযোগ কম থাকে।

ব্র্যাকের সমীক্ষা অনুসারে, এই ধরনের যাত্রার অধিকাংশ তরুণ ঢাকার আশপাশ, মাদারীপুর ও সিলেট অঞ্চলের ১০-১২ জেলার বাসিন্দা। স্থানীয় দালালরা ৬০ শতাংশ পরিবারকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে ৮৯ শতাংশই কাজ পাননি। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬,২৬০ জন দেশে ফিরে এসেছে।

kalprakash.com/SS