ডিজিটাল যুগে বট বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এর অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। তাদের মতে, প্রযুক্তি নিজে নিষিদ্ধ নয়; তবে মিথ্যা প্রচার, প্রতারণা, চরিত্রহনন ও গুজব ছড়ানোর মতো কাজে বট ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।
‘বট’ শব্দটি ‘রোবট’ থেকে এসেছে। এটি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার, যা ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে। ব্যবসা, গ্রাহকসেবা, তথ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের মতো বৈধ কাজে বট ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর অপব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে ভুয়া ফলোয়ার, লাইক ও কমেন্ট বাড়িয়ে জনপ্রিয়তার কৃত্রিম চিত্র তৈরি করা, মিথ্যা রিভিউ দেওয়া, গুজব ছড়ানো এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে বট ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এসব কর্মকাণ্ড প্রতারণার শামিল।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিও না এবং জেনেবুঝে হককে গোপন করো না।” (সুরা বাকারা: ৪২)
এছাড়া মহানবী (সা.) বলেছেন, “যে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪)
বট ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের পক্ষে মিথ্যা প্রশংসা এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোকে মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, “মিথ্যা কথাকে পরিহার করো।” (সুরা হজ: ৩০)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ, অপমান ও চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বট নেটওয়ার্কগুলোকেও ইসলাম সমর্থন করে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “দুর্ভোগ প্রত্যেকের জন্য, যে সামনে নিন্দাকারী ও পেছনে গীবতকারী।” (সুরা হুমাযা: ১)
একইভাবে রাসুল (সা.) বলেছেন, “মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি, আর তার সঙ্গে লড়াই করা কুফরি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮)
বিশ্লেষকদের মতে, বটের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ও ভুয়া জনমত সৃষ্টি বর্তমানে বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করা থেকেও ইসলাম কঠোরভাবে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই প্রচার করে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭)
এছাড়া অন্যায়ের কাজে সহযোগিতা না করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, “পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।” (সুরা মায়েদা: ২)
ইসলামি গবেষকদের মতে, বট পরিচালনাকারী, অর্থদাতা এবং অপপ্রচারে অংশগ্রহণকারী—সকলেই অন্যায়ের কাজে সহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে। তাই কোনো মুসলমানের জন্য বট বা অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার, ভুয়া জনপ্রিয়তা সৃষ্টি, চরিত্রহনন, গুজব ছড়ানো বা জনমতকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করা বৈধ নয়।
তাদের মতে, বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও সততা, আমানতদারি এবং আল্লাহভীতি বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
কাল প্রকাশ ডেস্ক 




















