বাংলাদেশ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি-তে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয়তা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের অভাব এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।

দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পুরো জেলার রাজনৈতিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করে রেখেছে। এর ফলে প্রকৃত ত্যাগী, মামলা-হামলার শিকার এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীরা সংগঠনের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গামাটিতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সঙ্গে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের গোপন সমঝোতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুসা মাতব্বরের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাওয়ালের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আত্মগোপন, ব্যবসা পরিচালনা এবং অবৈধ সম্পদ রক্ষায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, জেলা বিএনপির একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বর্তমানে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও দখল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলের মূল্যবান সেগুন কাঠ চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি সিগারেটের অবৈধ আমদানি ও বাজারজাতকরণ এবং মাদক ব্যবসা অন্যতম।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বিএনপির সাংগঠনিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

ক্ষমতার পালাবদলের পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন বিভিন্ন রিসোর্ট ও সম্পদ দখল নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাজেক ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের লাভজনক রিসোর্ট, পাহাড়ি জমি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘তাজমহল রিসোর্ট’-সহ কয়েকটি পর্যটন ব্যবসা বর্তমানে ওই সিন্ডিকেটের প্রভাবাধীন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের বড় বড় টেন্ডার, ঠিকাদারি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় জেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়তোষ চাকমা-এর নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সমন্বয় করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রিসোর্ট দখলসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান ও সদস্যপদ দখলে নিতে জেলা বিএনপির একটি পক্ষ কেন্দ্রে ব্যাপক লবিং চালাচ্ছে।

তাদের আশঙ্কা, বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী নেতারা এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় কর্মীদের মূল্যায়ন না করে সুবিধাবাদী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তারা অবিলম্বে সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, প্রিয়তোষ চাকমাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলা বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, প্রিয়তোষ চাকমা কিংবা অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি

প্রকাশিত: ০৫:১৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি-তে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয়তা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের অভাব এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।

দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পুরো জেলার রাজনৈতিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করে রেখেছে। এর ফলে প্রকৃত ত্যাগী, মামলা-হামলার শিকার এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীরা সংগঠনের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গামাটিতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সঙ্গে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের গোপন সমঝোতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুসা মাতব্বরের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাওয়ালের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আত্মগোপন, ব্যবসা পরিচালনা এবং অবৈধ সম্পদ রক্ষায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, জেলা বিএনপির একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বর্তমানে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও দখল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলের মূল্যবান সেগুন কাঠ চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি সিগারেটের অবৈধ আমদানি ও বাজারজাতকরণ এবং মাদক ব্যবসা অন্যতম।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বিএনপির সাংগঠনিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

ক্ষমতার পালাবদলের পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন বিভিন্ন রিসোর্ট ও সম্পদ দখল নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাজেক ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের লাভজনক রিসোর্ট, পাহাড়ি জমি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘তাজমহল রিসোর্ট’-সহ কয়েকটি পর্যটন ব্যবসা বর্তমানে ওই সিন্ডিকেটের প্রভাবাধীন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের বড় বড় টেন্ডার, ঠিকাদারি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় জেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়তোষ চাকমা-এর নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সমন্বয় করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রিসোর্ট দখলসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান ও সদস্যপদ দখলে নিতে জেলা বিএনপির একটি পক্ষ কেন্দ্রে ব্যাপক লবিং চালাচ্ছে।

তাদের আশঙ্কা, বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী নেতারা এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় কর্মীদের মূল্যায়ন না করে সুবিধাবাদী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তারা অবিলম্বে সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, প্রিয়তোষ চাকমাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলা বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, প্রিয়তোষ চাকমা কিংবা অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।