ইরান ড্রোন প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নতুন প্রজন্মের ড্রোন ‘গাজা’কে দেশটির সামরিক সক্ষমতায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইআরজিসি বিমান বাহিনীর মাধ্যমে ২০২১ সালে উন্মোচিত ‘শাহেদ ১৪৯ গাজা’ ড্রোনটি দীর্ঘপাল্লার পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আংশিক আক্রমণ সক্ষমতার সমন্বয়ে তৈরি একটি মাল্টি-রোল ইউএভি হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘ সময় উড্ডয়ন ও ভারী পে-লোড
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গাজা’ ড্রোন টানা প্রায় ৩৫ ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে এবং ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অপারেশনাল রেঞ্জে কাজ করতে সক্ষম। এটি ভারী সেন্সর ও অস্ত্র বহন করতে পারে বলে দাবি করা হয়।
ড্রোনটি প্রায় ৫০০ কেজি পর্যন্ত গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বহন করতে পারে এবং আধুনিক ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন জুম প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পিস্টন ইঞ্জিনের পরিবর্তে টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে ড্রোনটির উচ্চতা, গতি ও বহন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ডানা বিস্তার প্রায় ২১ মিটার এবং এটি প্রায় ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।
ডিজাইনে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভেতরে অস্ত্র বহনের জন্য অভ্যন্তরীণ বে (internal bay) যুক্ত করার কথাও উল্লেখ রয়েছে, যা ইরানের ড্রোন প্রযুক্তিতে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামরিক ও বেসামরিক ব্যবহার
সামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি এই ড্রোনটি গোয়েন্দা নজরদারি, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারযোগ্য বলে দাবি করা হয়। বন পর্যবেক্ষণ, উদ্ধার অভিযান এবং বন্যা-ভূমিকম্প পরিস্থিতিতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গাজা’ ড্রোন ইরানের দীর্ঘপাল্লার মানববিহীন বিমান প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে, যা দেশটির কৌশলগত সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























