বাংলাদেশ ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নওগাঁয় আদালতের নথি চুরি রহস্য উদঘাটন, পুলিশ সুপারের তৎপরতায় আটক ৪

নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের অপেক্ষমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি এবং তা ফেরত দেওয়ার নামে চাঁদা দাবির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় চুরি হওয়া মামলার নথিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ দায়রা মামলা নং ৯০৪/২০২২ এর রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে রায়ের আগেই মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি হয়ে যায়। একইসঙ্গে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আদালতের এক কর্মচারীর কাছে ফোন করে নথি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে রাজশাহীর বাগমারা ও পরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এস এম আকাশ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং বাড়ির আঙিনায় খড়ের পালার ভেতর লুকিয়ে রাখা মামলার নথি উদ্ধার করে দেয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ, সাপাহার সাব-জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং আদালতের মোহরার সবুজ (৪০)।

গ্রেফতারকৃত সবুজ রানীনগর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের আমজাদের ছেলে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ শহরের বকুলতলা এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গ্রেফতারকৃত এস এম আকাশ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “আদালতের রায়ের অপেক্ষমাণ গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি এবং তা ফেরত দেওয়ার নামে চাঁদা দাবি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি জানার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া মামলার নথি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় আদালতের নথি চুরি রহস্য উদঘাটন, পুলিশ সুপারের তৎপরতায় আটক ৪

প্রকাশিত: ০১:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের অপেক্ষমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি এবং তা ফেরত দেওয়ার নামে চাঁদা দাবির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় চুরি হওয়া মামলার নথিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ দায়রা মামলা নং ৯০৪/২০২২ এর রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে রায়ের আগেই মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি হয়ে যায়। একইসঙ্গে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আদালতের এক কর্মচারীর কাছে ফোন করে নথি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে রাজশাহীর বাগমারা ও পরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এস এম আকাশ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং বাড়ির আঙিনায় খড়ের পালার ভেতর লুকিয়ে রাখা মামলার নথি উদ্ধার করে দেয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ, সাপাহার সাব-জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং আদালতের মোহরার সবুজ (৪০)।

গ্রেফতারকৃত সবুজ রানীনগর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের আমজাদের ছেলে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ শহরের বকুলতলা এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গ্রেফতারকৃত এস এম আকাশ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “আদালতের রায়ের অপেক্ষমাণ গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি এবং তা ফেরত দেওয়ার নামে চাঁদা দাবি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি জানার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া মামলার নথি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।