দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর বেলা। চট্টগ্রামের বাকলিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ শ্রমজীবী এলাকা। তিন বছরের শিশুটি ঘুমাচ্ছিল তার নানির ঘরে । মা–বাবা দুজনেই কাজে বেরিয়েছেন। মা পোশাক কারখানায়, আর বাবা সকালেই বেরিয়েছেন অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায়। নানি তখন রান্নাঘরে কাজে ব্যস্ত। আর ধর্ষক তখন ওত পেতে ছিল শিশুটিকে শিকার করার নেশায়। নানি কাছে থাকা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি শিশুটির। হায়ানার থাবা তার শিশুকালকে কলঙ্কিত করে সমাজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখে দিল।
প্রতিবেশীদের ধারণা, ধর্ষক মনির আগেই শিশুটিকে দেখে রেখেছিল। প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করত সে, আশপাশের মানুষদের সঙ্গে তার সম্পর্কও খারাপ ছিল না। এই পরিচিত মানুষের কাছেই হার মানে তিন বছরের ওই শিশুর নিরাপত্তা।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির পরিবার ভীষণ পরিচিত—দরিদ্র হলেও পরিশ্রমী, শান্ত, নিজের মতো জীবনযাপন করা পরিবার। শিশুটি খুব চঞ্চল নয়—বেশির ভাগ সময় নানির সঙ্গেই থাকে।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে মনির শিশুটিকে ঘুম থেকে তুলে খেলার কথা বলে ডেকে নেয়। নানি ভেবেছিলেন শিশুটি বাইরে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছে। কিন্তু মনির তাকে নিয়ে যায় পাশের ডেকোরেশনের গোডাউনে—যা দিনের বেলায় সুনসান ও ফাঁকা থাকে।
গোডাউনটি সাধারণত বিয়ের সাজসজ্জার সামগ্রী রাখার জায়গা। দিনের বেলা তা তালা ছাড়া থাকে। পুলিশ বলছে, নির্জনতা নিশ্চিত করেই মনির সেখানে শিশুটিকে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণের কারণে অজ্ঞান হয়ে যায় শিশুটি। ওঠার পর শিশুটি তীব্র ব্যথায় কাঁদতে থাকে। তখনই নানি ছুটে গিয়ে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে শিশুটিকে দেখে ভেঙে পড়েছেন মা–বাবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা বলেন, ‘মেয়ে তো ঘুমাচ্ছিল। ওকে রেখে আমরা কাজে ছিলাম। কীভাবে এমন হলো… ভাবলেও গা শিউরে ওঠে।’
বাবা বলেন, ‘আমরা গরিব বলে কি আমাদের মেয়ের জীবন এত সস্তা? ও আমাদের একমাত্র আশা।’
অভিযুক্ত মো. মনিরের বাড়ি কুমিল্লা। পেশায় তিনি ডেকোরেশনের কাজ করেন। বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। মনিরের স্ত্রী আছেন, দুটি ছোট মেয়ে রয়েছে—তবু একই মহল্লার একটি শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে স্তব্ধ করে দিয়েছেন সবাইকে।
বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলাইমান বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে বলেছিল। কিছু কিছু জনতাকে বুঝিয়ে আমরা সরায় দিই। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী পুলিশ ও যানবাহনের ওপর হামলা করেছে। মনিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের হাতে আটক মনির শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে ‘শয়তানে পেয়েছিল’ এমন কথাও বলেন তিনি।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 






















