মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাগেরহাটে ছয় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ২০ মার্চ শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এসব আয়োজনে ১৯৭১ সালের বিভীষিকাময় ঘটনার কথা তুলে ধরা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সামনে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বিরল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন কর্মসূচিরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
২৫ মার্চ রাতজুড়ে শহীদদের স্মরণে জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে।
স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের দশানি মোড়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
এরপর বাগেরহাট জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও অভিবাদন গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জেলার হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও বৃদ্ধাশ্রমে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হবে।
এদিকে দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও র্যালি, আলোচনা সভা ও দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে খানজাহান আলী (রহ.) মাজার গেট এলাকায় ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে এবারই প্রথমবারের মতো এভাবে ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
বাগেরহাট প্রতিনিধি 











